শবে কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য
শবে কদর ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ রাত, যা হাজার মাসের চেয়েও
উত্তম বলে ঘোষণা করা হয়েছে কুরআন-এ। এই রাতে আল্লাহ তাআলা বিশেষ রহমত, বরকত
ও ক্ষমা বর্ষণ করেন এবং বান্দার আন্তরিক ইবাদত কবুল করেন। হযরত মুহাম্মদ
(সা.) এই রাতকে তালাশ করার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন, বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে।
শবে কদর মানুষের জীবনে আত্মশুদ্ধি, গুনাহ মাফ এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক
মহামূল্যবান সুযোগ, যা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পোস্টটি শুরু করার আগে আপনাদের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি যে, অবশ্যই পোস্টটি
শেষ পর্যন্ত পড়বেন এবং প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সম্পর্কে জানবেন এবং তা
সঠিকভাবে প্রয়োগ করবেন। পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়ার মাধ্যমে আপনারা এ পোস্টের
গুরুত্বপূর্ণ সব কথাগুলো ভালোভাবে বুঝতে পারবেন এবং তা প্রয়োগ করতে কোন
অসুবিধা হবে না বা প্রয়োগের পরও কোন অসুবিধা হবে না। আপনাদের সুবিধার্থে
পোষ্টের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো পেজ সূচিপত্র আকারে তুলে ধরা হলো।
পেজ সূচিপত্র:শবে কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য
- শবে কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য
- শবে কদর কী এবং এর অর্থ
- কুরআন অনুযায়ী শবে কদরের গুরুত্ব
- হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর হাদিসে শবে কদরের ফজিলত
- শবে কদর কোন রাতে হয়
- শবে কদরের রাতে কী কী আমল করা উচিত
- শবে কদরের বিশেষ দোয়া ও ইবাদত
- শবে কদরের তাৎপর্য ও শিক্ষা
- শবে কদরের ফজিলত পাওয়ার উপায়
- শেষ কথা:শবে কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য
শবে কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য
শবে কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য মুসলমানদের জন্য খুবই বিশেষ একটি বিষয়, কারণ এই
রাতকে আল্লাহ তাআলা রহমত, ক্ষমা এবং বরকতের রাত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
কুরআন-এ বলা হয়েছে, এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম, অর্থাৎ এই এক রাতে
করা ইবাদতের সওয়াব অনেক বেশি। তাই রমজানের শেষ দশকে মানুষ বেশি বেশি নামাজ
পড়ে, কুরআন তিলাওয়াত করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়।
আরো পড়ুন:আরবি মাসের ক্যালেন্ডার ২০২৬
হযরত মুহাম্মদ (সা.) এই রাত খুঁজে বের করার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহ দিয়েছেন,
যাতে মানুষ এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়। শবে কদর শুধু ইবাদতের রাত নয়,
এটি নিজের জীবনকে নতুনভাবে গড়ার একটি সময়ও। এই রাতে বান্দা তার ভুলের
জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে এবং ভালো কাজ করার প্রতিজ্ঞা করে।
যারা আন্তরিকভাবে এই রাতের মর্যাদা বুঝে ইবাদত করে, তারা আল্লাহর কাছ থেকে
বিশেষ পুরস্কার লাভ করে। এজন্য শবে কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য বুঝে এই রাতকে
মূল্যবানভাবে কাজে লাগানো প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শবে কদর কী এবং এর অর্থ
শবে কদর কী এবং এর অর্থ বুঝতে হলে আগে এর নামের দিকে লক্ষ্য করা দরকার।
“শবে কদর” শব্দটি ফারসি, যেখানে “শব” মানে রাত এবং “কদর” মানে মর্যাদা,
সম্মান বা বিশেষ মূল্য। আর আরবি ভাষায় এটিকে “লাইলাতুল কদর” বলা হয়, যার
অর্থ হলো সম্মানের রাত বা ভাগ্য নির্ধারণের রাত। এই রাতটি রমজান মাসের শেষ
দশ দিনের মধ্যে আসে এবং মুসলমানদের কাছে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাতগুলোর
একটি।
কুরআন-এ এই রাতকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে, যা প্রমাণ করে এই
সময়ের ইবাদতের মূল্য কত বেশি। এই রাতে ফেরেশতারা পৃথিবীতে নেমে আসে এবং
আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী শান্তি ও রহমত বিতরণ করে। হযরত মুহাম্মদ (সা.) এই
রাতকে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে খুঁজতে বলেছেন, যাতে মানুষ বেশি
বেশি ইবাদত করতে উৎসাহ পায়।
শবে কদর শুধু একটি রাত নয়, এটি এমন একটি সুযোগ যখন একজন মানুষ তার অতীতের
ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে পারে এবং নতুনভাবে জীবন শুরু করার নিয়ত করতে পারে।
এই রাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আল্লাহ তাআলা এই সময়ে বান্দার
দোয়া বিশেষভাবে কবুল করেন। এজন্য মুসলমানরা এই রাতে নামাজ পড়ে, কুরআন
তিলাওয়াত করে এবং বেশি বেশি দোয়া করে।
শবে কদরের প্রকৃত অর্থ হলো আল্লাহর কাছে নিজের মূল্য বাড়ানোর সুযোগ এবং
তাঁর রহমত অর্জনের একটি বিশেষ সময়, যা মানুষের আখিরাতের জন্য খুবই
গুরুত্বপূর্ণ।
কুরআন অনুযায়ী শবে কদরের গুরুত্ব
কুরআন অনুযায়ী শবে কদরের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি, কারণ এই রাতকে আল্লাহ
তাআলা নিজেই বিশেষভাবে মর্যাদা দিয়েছেন। কুরআন-এর সূরা আল-কদরে স্পষ্টভাবে
বলা হয়েছে যে, এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এর মানে হলো, এই এক রাতের
ইবাদত দীর্ঘ সময়ের ইবাদতের চেয়েও বেশি মূল্যবান হতে পারে।
এই রাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত ও শান্তি নাজিল হয় এবং ফেরেশতারা আল্লাহর
নির্দেশ নিয়ে পৃথিবীতে আসে। এটি এমন একটি সময় যখন একজন বান্দা আল্লাহর
কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি ক্ষমা করে দেন এবং তার দোয়া কবুল করেন। এই কারণেই
মুসলমানরা রমজানের শেষ দশকে বেশি মনোযোগ দিয়ে ইবাদত করে।
আরো পড়ুন:রোজা রাখার উপকারিতা ইসলাম
হযরত মুহাম্মদ (সা.) এই রাতের গুরুত্ব বোঝাতে সাহাবীদের সবসময় এই রাত
খোঁজার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। কুরআনের মাধ্যমে বোঝা যায়, শবে কদর শুধু একটি
সাধারণ রাত নয়, বরং এটি মানুষের জন্য রহমত পাওয়ার একটি বড় সুযোগ। যারা
এই রাতে নামাজ পড়ে, কুরআন তিলাওয়াত করে এবং আল্লাহকে স্মরণ করে, তারা
বিশেষ সওয়াব লাভ করে।
এই রাত মানুষের ঈমানকে শক্তিশালী করে এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক আরও গভীর
করে। কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, এই রাতের প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান এবং এই
সময়ে করা ভালো কাজের প্রতিদান অনেক বেশি। এজন্য শবে কদরের গুরুত্ব বুঝে এই
রাতকে ইবাদতের মাধ্যমে কাজে লাগানো মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর হাদিসে শবে কদরের ফজিলত
হযরত হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর হাদিসে শবে কদরের ফজিলত অত্যন্ত স্পষ্টভাবে
বর্ণিত হয়েছে। তিনি এই রাতকে এমন একটি সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন, যখন একজন
মুসলমান তার অতীতের গুনাহ থেকে মুক্তি পেতে পারে। একটি সহিহ হাদিসে রাসুল
(সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের আশায় শবে কদরে ইবাদত
করবে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
” (সহিহ বুখারি: ১৯০১, সহিহ মুসলিম: ৭৬০)। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, এই
রাতে আন্তরিকভাবে নামাজ, দোয়া এবং আল্লাহর স্মরণ করলে আল্লাহ বিশেষভাবে
ক্ষমা করেন। আরেকটি হাদিসে তিনি সাহাবীদের শবে কদর খোঁজার জন্য রমজানের শেষ
দশকের বেজোড় রাতগুলোতে বেশি বেশি ইবাদত করতে বলেছেন।
রাসুল (সা.) বলেছেন: “তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে শবে কদর
অনুসন্ধান করো।” (সহিহ বুখারি: ২০১৭)। এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছেন, এই
রাতের গুরুত্ব এত বেশি যে এটি খুঁজে বের করার জন্য বিশেষ চেষ্টা করা দরকার।
এছাড়া রাসুল (সা.) নিজেও এই সময়ে বেশি বেশি ইবাদত করতেন।
হযরত আয়েশা (রা.) বলেছেন: “রমজানের শেষ দশক শুরু হলে রাসুল (সা.) রাত জেগে
ইবাদত করতেন, পরিবারকে জাগিয়ে দিতেন এবং ইবাদতে বেশি মনোযোগ দিতেন।” (সহিহ
বুখারি: ২০২৪, সহিহ মুসলিম: ১১৭৪)। এসব হাদিস থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, শবে
কদরের ফজিলত অনেক বড় এবং এই রাতের ইবাদত একজন মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন
আনতে পারে।
শবে কদর কোন রাতে হয়
শবে কদর কোন রাতে হয়, এটি নির্দিষ্টভাবে একটি তারিখ দিয়ে বলা হয়নি, বরং
রমজান মাসের শেষ দশকের মধ্যে এই রাত লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এর মূল কারণ হলো,
মুসলমানরা যেন এক রাতের উপর নির্ভর না করে বরং শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই
বেশি বেশি ইবাদত করে। হযরত মুহাম্মদ (সা.) এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা
দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন: “তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে শবে কদর খুঁজে
নাও।” (সহিহ বুখারি: ২০১৭)। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, ২১, ২৩, ২৫, ২৭ এবং
২৯ রমজানের রাতগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ইসলামি স্কলার ২৭তম রাতকে
বেশি সম্ভাবনাময় মনে করেন, তবে নিশ্চিতভাবে শুধু একটি রাতকেই নির্ধারণ করা
হয়নি।
আরো পড়ুন:নতুন বছর নিয়ে ইসলামিক উক্তি
আরেকটি হাদিসে হযরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, রাসুল (সা.) রমজানের শেষ দশক এলে
ইবাদতে আরও বেশি মনোযোগ দিতেন এবং পুরো রাত জেগে আল্লাহর ইবাদত করতেন (সহিহ
মুসলিম: ১১৭৪)। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, তিনি শুধু একটি রাত নয়, বরং পুরো
শেষ দশককেই গুরুত্ব দিতেন। শবে কদর এমন একটি সময়, যখন আল্লাহ তাআলা
বান্দার দোয়া কবুল করেন এবং বিশেষ রহমত দান করেন।
তাই এই রাত পাওয়ার জন্য মুসলমানরা শেষ দশকের প্রতিটি বেজোড় রাতে নামাজ,
কুরআন তিলাওয়াত এবং দোয়া করে থাকে। শবে কদর কোন রাতে হয় তা গোপন রাখা
হয়েছে, যাতে মানুষ বেশি বেশি ইবাদত করে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা
করে।
শবে কদরের রাতে কী কী আমল করা উচিত
শবে কদরের রাতে কী কী আমল করা উচিত, তা আমাদের শিখিয়েছেন হযরত মুহাম্মদ
(সা.) তাঁর হাদিসের মাধ্যমে। এই রাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো নফল
নামাজ পড়া এবং আল্লাহর কাছে মন থেকে দোয়া করা। রাসুল (সা.) বলেছেন: “যে
ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের আশায় শবে কদরে রাত জেগে ইবাদত করবে, তার
আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
” (সহিহ বুখারি: ১৯০১, সহিহ মুসলিম: ৭৬০)। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, এই
রাতে নামাজ পড়া একটি বড় আমল। এছাড়া কুরআন তিলাওয়াত করা খুবই
গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আল্লাহর বাণী এবং এই রাতে কুরআন নাজিল শুরু
হয়েছিল। বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করাও এই রাতের একটি বিশেষ আমল। হযরত
আয়েশা (রা.) একবার জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যদি তিনি এই রাত পান তাহলে কী দোয়া
পড়বেন।
তখন রাসুল (সা.) বলেছেন: “পড়বে, আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল
আফওয়া ফা’ফু আন্নি।” (তিরমিজি: ৩৫১৩)। এর অর্থ হলো, হে আল্লাহ, আপনি
ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন। এছাড়া জিকির
করা, দরুদ পড়া এবং নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ আমল।
রাসুল (সা.) নিজেও রমজানের শেষ দশকে বেশি বেশি ইবাদত করতেন এবং পুরো রাত
আল্লাহর স্মরণে কাটাতেন (সহিহ মুসলিম: ১১৭৪)। এই আমলগুলো আন্তরিকভাবে করলে
একজন মুসলমান আল্লাহর রহমত, ক্ষমা এবং বিশেষ বরকত লাভ করতে পারে।
শবে কদরের বিশেষ দোয়া ও ইবাদত
শবে কদরের বিশেষ দোয়া ও ইবাদত মুসলমানদের জন্য এমন একটি সুযোগ, যা পুরো
বছরের মধ্যে খুব কমই আসে। এই রাতকে রহমত, মাগফিরাত এবং নাজাতের রাত বলা
হয়। এই সময়ে আল্লাহর কাছে করা দোয়া অন্য সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্ব
পায়। তাই এই রাত আসলে একজন মুমিনের প্রধান লক্ষ্য থাকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা
চাওয়া এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করা। হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে এই রাত এলে
ইবাদতে এত বেশি মনোযোগ দিতেন যে তিনি পুরো রাত জেগে থাকতেন এবং তাঁর
পরিবারকেও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দিতেন। (সহিহ বুখারি: ২০২৪, সহিহ মুসলিম:
১১৭৪)। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, এই রাতকে গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগানো কতটা
জরুরি।
শবে কদরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দোয়া সম্পর্কে একটি স্পষ্ট হাদিস রয়েছে।
হযরত আয়েশা (রা.) রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যদি তিনি এই রাত পান
তাহলে কী পড়বেন। তখন রাসুল (সা.) তাকে একটি সহজ কিন্তু গভীর অর্থপূর্ণ
দোয়া শিখিয়েছিলেন: “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু
আন্নি।” (তিরমিজি: ৩৫১৩, ইবনে মাজাহ: ৩৮৫০)। এর অর্থ হলো, হে আল্লাহ, আপনি
ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন। এই দোয়াটি
শবে কদরের বিশেষ দোয়া হিসেবে পরিচিত, কারণ এতে সরাসরি আল্লাহর ক্ষমা
চাওয়া হয়, যা এই রাতের মূল উদ্দেশ্য।
আরো পড়ুন:রমজান মাসের ক্যালেন্ডার ২০২৬
এই রাতে নফল নামাজ পড়া একটি বড় ইবাদত। হাদিসে বলা হয়েছে: “যে ব্যক্তি
ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের আশায় শবে কদরে রাত জেগে নামাজ পড়বে, তার আগের
গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (সহিহ বুখারি: ১৯০১, সহিহ মুসলিম: ৭৬০)। এই
নামাজ হতে পারে তাহাজ্জুদ, নফল বা অন্যান্য ইবাদত। দীর্ঘ সময় ধরে নামাজ
পড়লে বান্দা আল্লাহর সাথে নিজের সম্পর্ক আরও গভীর করতে পারে। এটি এমন একটি
সময়, যখন মন শান্ত থাকে এবং দোয়া মন থেকে করা যায়।
কুরআন তিলাওয়াত করাও শবে কদরের বিশেষ ইবাদতের মধ্যে অন্যতম। কারণ এই রাতেই
কুরআন নাজিল শুরু হয়েছিল। তাই এই রাতে কুরআন পড়া শুধু সওয়াবের কারণ নয়,
বরং এটি আল্লাহর সাথে যোগাযোগের একটি মাধ্যম। ধীরে ধীরে অর্থ বুঝে পড়লে এর
প্রভাব হৃদয়ে বেশি পড়ে এবং একজন মানুষ নিজের জীবন সম্পর্কে নতুনভাবে
ভাবতে পারে।
জিকির এবং দরুদ পড়াও এই রাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। “সুবহানাল্লাহ”,
“আলহামদুলিল্লাহ”, “আল্লাহু আকবার” এবং দরুদ শরিফ পড়লে বান্দা সবসময়
আল্লাহর স্মরণে থাকে। হাদিসে এসেছে, যারা বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করে,
আল্লাহ তাদের বিশেষভাবে ভালোবাসেন। এই রাতের শান্ত পরিবেশে জিকির করলে মন
থেকে দুনিয়ার চিন্তা দূরে সরে যায় এবং আল্লাহর প্রতি মনোযোগ বাড়ে।
ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা শবে কদরের অন্যতম মূল ইবাদত। কারণ এই রাতের
প্রধান উদ্দেশ্য হলো গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়া। যখন একজন মানুষ নিজের ভুল
স্বীকার করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, তখন আল্লাহ তার প্রতি রহমত দান
করেন। এই সময়ে আন্তরিকভাবে “আস্তাগফিরুল্লাহ” পড়া একজন মানুষের জন্য অনেক
উপকারী হতে পারে।
দোয়া করার সময় নিজের প্রয়োজন, ভবিষ্যৎ, পরিবার এবং আখিরাতের জন্য দোয়া
করা উচিত। এই রাত এমন একটি সময়, যখন বান্দার দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।
তাই শুধু মুখে দোয়া না করে, মন থেকে অনুভব করে আল্লাহর কাছে চাওয়া উচিত।
নিজের জীবনের উন্নতি এবং সঠিক পথে থাকার জন্য এই রাতের দোয়া খুবই
গুরুত্বপূর্ণ। শবে কদরের বিশেষ দোয়া ও ইবাদত একজন মানুষের জীবনে বড়
পরিবর্তন আনতে পারে। এই রাতে করা ইবাদত মানুষের হৃদয়কে পরিষ্কার করে এবং
আল্লাহর সাথে সম্পর্ককে শক্তিশালী করে। যারা এই রাতকে গুরুত্ব দিয়ে ইবাদত
করে, তারা আল্লাহর রহমত, ক্ষমা এবং অসংখ্য বরকত লাভ করার সুযোগ পায়।
শবে কদরের তাৎপর্য ও শিক্ষা
শবে কদরের তাৎপর্য ও শিক্ষা মুসলমানদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে, কারণ এই
রাত মানুষকে নিজের জীবন নিয়ে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ দেয়। এই রাত আমাদের
মনে করিয়ে দেয় যে, আল্লাহ সবসময় তাঁর বান্দার দিকে তাকিয়ে আছেন এবং
তিনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি
ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের আশায় শবে কদরে ইবাদত করবে, তার আগের সব গুনাহ
ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (সহিহ বুখারি: ১৯০১, সহিহ মুসলিম: ৭৬০)।
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, এই রাত একজন মানুষের জন্য নতুনভাবে শুরু করার
একটি বড় সুযোগ। শবে কদরের শিক্ষা হলো, মানুষ যেন দুনিয়ার ব্যস্ততার মাঝেও
আল্লাহকে ভুলে না যায়। এই রাত আমাদের শেখায়, জীবনে যত ভুলই হোক না কেন,
আল্লাহর কাছে ফিরে আসলে তিনি ক্ষমা করেন। এই শিক্ষা একজন মানুষকে হতাশা
থেকে বের করে আশা দেয়।
যখন একজন বান্দা এই রাতে দোয়া করে, তখন সে বুঝতে পারে আল্লাহর সাথে তার
সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এটি মানুষকে আরও ভালো কাজ করার জন্য অনুপ্রাণিত
করে এবং খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে। এই রাতের আরেকটি বড়
শিক্ষা হলো ধৈর্য এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ। রমজানের শেষ দশকে এই রাত খোঁজার
মাধ্যমে মানুষ নিয়মিত ইবাদত করার অভ্যাস গড়ে তোলে।
রাসুল (সা.) নিজেও এই সময়ে বেশি বেশি ইবাদত করতেন এবং সাহাবীদেরও উৎসাহ
দিতেন (সহিহ মুসলিম: ১১৭৪)। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, এই রাত শুধু একটি সময়
নয়, বরং এটি মানুষের চরিত্র গঠনের একটি সুযোগ। শবে কদরের তাৎপর্য ও শিক্ষা
একজন মানুষকে আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে যায় এবং তার জীবনকে সঠিক পথে
পরিচালিত করতে সাহায্য করে।
শবে কদরের ফজিলত পাওয়ার উপায়
শবে কদরের ফজিলত পাওয়ার উপায় মুসলমানদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়,
কারণ এই রাতে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায় এবং পূর্বের গুনাহ ক্ষমা
পাওয়া সম্ভব। হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং
সওয়াবের আশায় শবে কদরে ইবাদত করবে, তার আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া
হবে।” (সহিহ বুখারি: ১৯০১, সহিহ মুসলিম: ৭৬০)।
এই হাদিস থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, শবে কদরের ফজিলত পাওয়ার মূল উপায় হলো
আন্তরিকতা এবং বিশ্বাসের সাথে ইবাদত করা। এই রাতে প্রথমেই নামাজ পড়া এবং
কুরআন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নামাজে মনোযোগী হওয়া এবং ধীরে
ধীরে কুরআন পড়ার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সাথে নিজের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী
করতে পারে।
আরো পড়ুন:রমজান মাসে করণীয় ও বর্জনীয়
হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.) এই রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং
পুরো রাত আল্লাহর স্মরণে কাটাতেন (সহিহ মুসলিম: ১১৭৪)। তাই রাতের বড় অংশ
ইবাদতে ব্যয় করা শবে কদরের ফজিলত পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। দোয়া
এবং ইস্তিগফারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে আছে, “পড়ো: আল্লাহুম্মা
ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।” (তিরমিজি: ৩৫১৩)।
এর মানে, হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে
ক্ষমা করুন। এই দোয়াটি সরাসরি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পথ খুলে দেয়।
শবে কদরের ফজিলত পাওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো জিকির এবং দরুদ
পড়া।
দিনে-রাতে আল্লাহকে স্মরণ করা, দরুদ পাঠ করা এবং নিজের ভুল স্বীকার করা
মনকে পরিশুদ্ধ করে। এই রাতের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর কাছে দোয়া করার
সুযোগ দেয়। তাই যারা শবে কদরের মর্যাদা বুঝে, এই রাতে নামাজ, দোয়া, কুরআন
তিলাওয়াত এবং জিকির করেন, তারা আল্লাহর বিশেষ রহমত এবং বরকত লাভ করতে
সক্ষম হন।
শেষ কথা:শবে কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য
শবে কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য বুঝতে পারা প্রতিটি মুসলিমের জন্য খুবই
গুরুত্বপূর্ণ। এই রাত আল্লাহর রহমত, ক্ষমা এবং বরকতের রাত হিসেবে বিশেষভাবে
উল্লেখ করা হয়েছে। হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি ঈমান এবং
সওয়াবের আশায় শবে কদরে ইবাদত করবে, তার পূর্বের সব গুনাহ ক্ষমা হয়ে
যাবে।” (সহিহ বুখারি: ১৯০১, সহিহ মুসলিম: ৭৬০)।
এই হাদিস আমাদের শেখায়, শবে কদরের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর কাছে ফিরে
যাওয়া, দোয়া করা এবং নিজের জীবনকে নতুনভাবে সাজানো। আমার মতামত অনুযায়ী,
এই রাতের মর্যাদা বোঝা এবং যথাযথ ইবাদত করা একজন মানুষের জীবনকে আল্লাহর
নৈকট্যের দিকে নিয়ে যায়। শুধু নামাজ নয়, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির এবং
দরুদ পড়াও এই রাতের গুরুত্ব বাড়ায়।
যারা আন্তরিকভাবে এই রাতকে কাজে লাগায়, তারা আল্লাহর কাছে বিশেষ সওয়াব
এবং শান্তি অর্জন করে। শবে কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য শুধু ধর্মীয় নির্দেশনা
নয়, বরং এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, নিয়মিত ইবাদত এবং আল্লাহর কাছে
ফিরে আসার চেষ্টাই জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে। তাই এই রাতকে
গুরুত্ব দিয়ে পালন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।



লাইফ ব্লেন্ড আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url