গরুর বাছুর কত দিনে হয়
গরুর বাছুর কত দিনে হয় এই প্রশ্নটি গবাদিপশু পালনকারীদের জন্য খুবই
গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গরুর গর্ভকাল জানা থাকলে সঠিক সময় অনুযায়ী খাদ্য,
পরিচর্যা এবং প্রসবের প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়। সাধারণত একটি সুস্থ গরু
গর্ভধারণের পর নির্দিষ্ট সময় শেষে বাছুর জন্ম দেয়। তবে গরুর জাত, শারীরিক
অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশের ওপর এই সময় কিছুটা কমবেশি হতে পারে। গর্ভকাল
সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে মা গরু ও বাছুর দুজনেরই সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব
হয়। তাই এই বিষয়টি জানা প্রত্যেক খামারির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
পোস্টটি শুরু করার আগে আপনাদের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি যে, অবশ্যই পোস্টটি
শেষ পর্যন্ত পড়বেন এবং প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সম্পর্কে জানবেন এবং তা
সঠিকভাবে প্রয়োগ করবেন। পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়ার মাধ্যমে আপনারা এ পোস্টের
গুরুত্বপূর্ণ সব কথাগুলো ভালোভাবে বুঝতে পারবেন এবং তা প্রয়োগ করতে কোন
অসুবিধা হবে না বা প্রয়োগের পরও কোন অসুবিধা হবে না। আপনাদের সুবিধার্থে
পোষ্টের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো পেজ সূচিপত্র আকারে তুলে ধরা হলো।
পেজ সূচিপত্র:গরুর বাছুর কত দিনে হয়
- গরুর বাছুর কত দিনে হয়
- গরুর গর্ভধারণ প্রক্রিয়া কীভাবে শুরু হয়
- গরুর গর্ভকাল সাধারণত কত দিন
- গর্ভাবস্থায় গরুর শারীরিক পরিবর্তন
- গর্ভবতী গরুর খাদ্য ও পরিচর্যা
- বাছুর হওয়ার আগে লক্ষণগুলো কী
- গরুর বাছুর প্রসবের স্বাভাবিক সময় ও ধাপ
- প্রসবের সময় সম্ভাব্য সমস্যা ও করণীয়
- বাছুর জন্মের পর মা ও বাছুরের যত্ন
- শেষ কথা:গরুর বাছুর কত দিনে হয়
গরুর বাছুর কত দিনে হয়
গরুর বাছুর কত দিনে হয় এই বিষয়টি নতুন বা অভিজ্ঞ সব খামারির কাছেই খুব
দরকারি একটি তথ্য। কারণ গরু পালনে সঠিক সময়ের হিসাব জানা না থাকলে অনেক সময়
অযথা সমস্যা তৈরি হয়। সাধারণভাবে গরুর গর্ভধারণ শুরু হওয়ার পর নির্দিষ্ট
একটি সময় পার হলে বাছুর জন্ম নেয়। এই সময়টাকে গর্ভকাল বলা হয়।
গরুর গর্ভকাল জানলে গর্ভাবস্থায় গরুর খাবার, বিশ্রাম, চলাফেরা এবং প্রসবের
আগের প্রস্তুতি ঠিকভাবে নেওয়া যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গরুর গর্ভকাল প্রায়
নয় মাসের মতো হয়, তবে গরুর জাত, বয়স, শরীরের অবস্থা এবং খাবারের মান
অনুযায়ী কিছুটা তারতম্য দেখা যেতে পারে। ভালো খাবার ও নিয়মিত যত্ন পেলে গরু
সুস্থ থাকে এবং বাছুরও ভালোভাবে জন্ম নেয়।
যারা খামার করেন বা বাড়িতে একাধিক গরু রাখেন, তাদের জন্য গরুর বাছুর জন্মের
সময় জানা থাকলে আগেই নিরাপদ জায়গা তৈরি করা, প্রয়োজনীয়
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রাখা এবং জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা করা সহজ হয়। এই তথ্য
জানা থাকলে গরু পালন আরও লাভজনক হয় এবং অপ্রত্যাশিত ঝুঁকিও কমে আসে।
গরুর গর্ভধারণ প্রক্রিয়া কীভাবে শুরু হয়
গরুর গর্ভধারণ প্রক্রিয়া কীভাবে শুরু হয় তা বোঝা গরু পালনের একেবারে মৌলিক
বিষয়। একটি গরু যখন শারীরিকভাবে প্রজননের জন্য প্রস্তুত হয়, তখন তার শরীরে
কিছু স্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়। এই সময়টাকে সাধারণভাবে হিট বা গরম হওয়া
বলা হয়। হিট অবস্থায় গরু অস্থির থাকে, বারবার ডাকাডাকি করে, অন্য গরুর ওপর
উঠতে চায় বা নিজে দাঁড়িয়ে থাকতে দেয়।
এ সময় গরুর শরীরে ডিম্বাণু তৈরি হয় এবং সেটি নিষিক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত
থাকে। খামারিরা সাধারণত এই লক্ষণ দেখেই বুঝতে পারেন যে গরুটিকে মিলনের জন্য
উপযুক্ত সময় এসেছে। এই পর্যায়ে গরুর সঙ্গে ষাঁড়ের স্বাভাবিক মিলন ঘটানো হলে
অথবা কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে বীজ প্রবেশ করানো হলে গর্ভধারণ শুরু হতে
পারে।
মিলনের পর পুরুষ বীজ গরুর শরীরের ভেতরে গিয়ে ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়। যদি
সবকিছু স্বাভাবিক থাকে এবং গরুর শরীর বীজ গ্রহণ করে, তাহলে নিষিক্ত
ডিম্বাণু জরায়ুতে গিয়ে অবস্থান নেয়। এখান থেকেই ধীরে ধীরে গর্ভের ভেতর
বাছুরের বৃদ্ধি শুরু হয়। এই সময় গরুর বাইরে থেকে তেমন কোনো পরিবর্তন চোখে
পড়ে না, তবে ভেতরে ভেতরে প্রক্রিয়াটি চলতে থাকে।
গর্ভধারণ সফল হওয়ার জন্য গরুর শরীর সুস্থ থাকা খুব জরুরি। ঠিকমতো খাবার,
পরিষ্কার পানি, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ না পেলে অনেক সময়
গর্ভ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই হিট শনাক্ত করার পর থেকে শুরু করে গর্ভ
নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত গরুর প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া দরকার। সঠিক সময়, যত্ন আর
সচেতনতা থাকলে গরুর গর্ভধারণ প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয় এবং
ভবিষ্যতে একটি সুস্থ বাছুর জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
গরুর গর্ভকাল সাধারণত কত দিন
গরুর গর্ভকাল সাধারণত কত দিন হয় এই প্রশ্নটা গরু পালন করলে একসময় না একসময়
আসেই। কারণ গর্ভের সময়টা ঠিকমতো বুঝতে পারলে খাবার দেওয়া, কাজ কমানো আর
প্রসবের প্রস্তুতি সবকিছু সহজ হয়। সাধারণভাবে একটি গরুর গর্ভকাল প্রায় ২৮০
দিনের মতো ধরা হয়, অর্থাৎ প্রায় নয় মাসের কাছাকাছি।
তবে বাস্তবে সব গরুর ক্ষেত্রে সময় একদম একই হয় না। কোনো গরু ২৭৫ দিনে বাছুর
দেয়, আবার কোনো গরুর ক্ষেত্রে ২৮৫ দিনও লাগতে পারে। এই পার্থক্যটা খুব
স্বাভাবিক। গরুর জাত এখানে বড় ভূমিকা রাখে। দেশি গরুর গর্ভকাল অনেক সময়
একটু কম হয়, আর উন্নত বা বিদেশি জাতের গরুর ক্ষেত্রে কয়েক দিন বেশি হতে
দেখা যায়।
শুধু জাত নয়, গরুর বয়স, শরীরের শক্তি, খাবারের মান আর পরিবেশও গর্ভকালকে
প্রভাবিত করে। যে গরু ভালো খাবার পায়, নিয়মিত পানি খায় এবং বেশি চাপের
মধ্যে থাকে না, তার গর্ভকাল বেশিরভাগ সময় স্বাভাবিকভাবেই শেষ হয়। অনেক
খামারি মিলনের তারিখ লিখে রাখেন, এতে করে সম্ভাব্য বাছুর জন্মের সময় আন্দাজ
করা সহজ হয়।
গর্ভের শেষ দিকে গরুর চলাফেরা ধীর হয়ে আসে, পেট আরও স্পষ্টভাবে বড় হয় এবং
বিশ্রামের প্রয়োজন বাড়ে। এই সময় বাড়তি যত্ন না নিলে সমস্যা হতে পারে। তাই
গরুর গর্ভকাল কত দিন হয় তা জানা শুধু তথ্যের জন্য নয়, বরং নিরাপদ ও লাভজনক
গরু পালনের জন্য খুবই দরকারি। সময়ের হিসাব ঠিক থাকলে খামারির ঝুঁকি কমে এবং
মা গরু ও বাছুর দুজনেই সুস্থ থাকে।
গর্ভাবস্থায় গরুর শারীরিক পরিবর্তন
গর্ভাবস্থায় গরুর শারীরিক পরিবর্তন ধাপে ধাপে দেখা যায় এবং এগুলো খামারির
চোখে পড়লে গর্ভের অবস্থাটা বোঝা সহজ হয়। গর্ভধারণের শুরুতে গরুর শরীরে খুব
বেশি পরিবর্তন চোখে পড়ে না। তবে কিছুদিন পর থেকেই গরুর আচরণে আলাদা ভাব
দেখা যায়। সে আগের মতো চঞ্চল থাকে না, বেশিরভাগ সময় শান্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকে
বা শুয়ে বিশ্রাম নেয়।
ধীরে ধীরে গরুর পেটের আকার বদলাতে শুরু করে, বিশেষ করে পাশের দিকটা একটু
ভারী দেখায়। সময় যত বাড়ে, এই পরিবর্তন তত স্পষ্ট হয়। গর্ভাবস্থার মাঝামাঝি
সময়ে গরুর খাবারের চাহিদা বেড়ে যায়। সে আগের চেয়ে বেশি খেতে চায় এবং পানিও
বেশি খায়। এই সময় শরীরের ওজন বাড়তে থাকে, তবে সেটা একদম হঠাৎ নয়, ধীরে ধীরে
হয়।
অনেক গরুর ক্ষেত্রে লোম একটু উজ্জ্বল দেখায়, আবার কারও কারও শরীর একটু ভারী
লাগতে পারে। চলাফেরায়ও পরিবর্তন আসে। আগে যেখানে সহজে হাঁটত, সেখানে এখন
ধীরে হাঁটে এবং বেশি দূর যেতে চায় না। গর্ভের শেষ দিকে শারীরিক পরিবর্তন
সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। পেট বেশ বড় হয়ে যায় এবং বসা বা শোয়ার সময় গরু
সাবধানে নড়াচড়া করে।
দুধের থন ধীরে ধীরে ফুলে ওঠে, যা বাছুর জন্মের প্রস্তুতির একটি স্বাভাবিক
লক্ষণ। এই সময় গরু বেশি বিশ্রাম নিতে চায় এবং কাজের চাপ একেবারে সহ্য করতে
পারে না। কিছু গরু আলাদা জায়গায় থাকতে পছন্দ করে, যেন সে আরাম পায়। এসব
পরিবর্তন স্বাভাবিক এবং গর্ভের অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়। খামারিরা যদি এই
লক্ষণগুলো ঠিকমতো বুঝতে পারেন, তাহলে গর্ভাবস্থায় গরুর যত্ন নেওয়া অনেক সহজ
হয়ে যায় এবং অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকিও কমে।
গর্ভবতী গরুর খাদ্য ও পরিচর্যা
গর্ভবতী গরুর খাদ্য ও পরিচর্যা ঠিকভাবে না হলে গর্ভের শেষ সময়টা ঝুঁকিপূর্ণ
হয়ে যেতে পারে। তাই এই সময় গরুর দিকে একটু বেশি নজর দেওয়া দরকার।
গর্ভধারণের পর থেকে গরুর শরীরের ভেতরে বাড়তি চাপ তৈরি হয়, কারণ সে একা নয়,
তার ভেতরে আরেকটি প্রাণ বেড়ে উঠছে। এজন্য খাবারে গাফিলতি করা চলবে না।
প্রতিদিন গরুকে পর্যাপ্ত পরিমাণ সবুজ ঘাস দিতে হবে। সঙ্গে খড়, ভুসি বা
দানাদার খাবার এমনভাবে দিতে হবে যেন পেট ভরে কিন্তু অতিরিক্ত না হয়।
পরিষ্কার পানি দিনে কয়েকবার খাওয়ার সুযোগ দিতে হবে, কারণ গর্ভবতী গরুর
পানির চাহিদা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। খাবারের পাশাপাশি পরিচর্যাও খুব
গুরুত্বপূর্ণ। গরুকে বেশি খাটানো যাবে না। ভারী কাজ বা লম্বা পথ হাঁটানো
থেকে বিরত রাখতে হবে।
থাকার জায়গা পরিষ্কার ও শুকনা হওয়া দরকার, যাতে সংক্রমণ বা পা পিছলে পড়ার
ঝুঁকি না থাকে। নিয়মিত গোসল করানো না গেলেও শরীর পরিষ্কার রাখা ভালো।
গর্ভের মাঝামাঝি সময় থেকে শেষ পর্যন্ত গরুকে একা বা শান্ত পরিবেশে রাখা
বেশি উপকারী। এতে সে মানসিকভাবে আরাম পায়। গর্ভের শেষ দিকে কিছু বাড়তি বিষয়
খেয়াল করা দরকার।
হঠাৎ করে খাবার কমে গেলে বা অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে দেরি না করে অভিজ্ঞ
কাউকে দেখানো উচিত। সময়মতো কৃমিনাশক বা প্রয়োজনীয় টিকা দেওয়া থাকলে গরু
সুস্থ থাকে। সঠিক খাদ্য ও নিয়মিত পরিচর্যা থাকলে গর্ভাবস্থা সহজে কাটে এবং
বাছুরও ভালোভাবে জন্ম নেয়। গরু পালনে এই সময়টুকু যত্ন নিলে ভবিষ্যতে অনেক
ঝামেলা নিজে থেকেই কমে যায়।
বাছুর হওয়ার আগে লক্ষণগুলো কী
বাছুর হওয়ার আগে লক্ষণগুলো খামারির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। কারণ এই
সময় খামারি আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে পারে এবং মা গরু ও বাছুর দুজনেরই
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। সাধারণভাবে বাছুর জন্মের আগে গরুর আচরণে কিছু
স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যায়। প্রথমে গরু সাধারণের চেয়ে বেশি বিশ্রাম নেয় এবং
চলাফেরায় ধীর হয়।
আগের মতো উচ্ছৃঙ্খল বা চঞ্চল থাকে না। অনেক সময় গরু আলাদা জায়গা খুঁজে নেয়,
যেন সে শান্তভাবে বসে থাকতে পারে। শরীরের দিকে নজর দিলে আরও কিছু লক্ষণ
বোঝা যায়। গরুর পেট এবং থন ধীরে ধীরে ফুলে ওঠে। দুধের পরিমাণ সামান্য বেড়ে
যায়, আর থন একটু নরম বা ভারী লাগতে শুরু করে। কিছু গরু এই সময় অস্থির হয়ে
ওঠে, বারবার দাঁড়ায়-বসে বা হালকা ডাকাডাকি করে।
খাদ্য গ্রহণ কমে যেতে পারে, কিন্তু পানি খাওয়ার পরিমাণ ঠিক থাকে। খামারিরা
এই আচরণগুলো লক্ষ্য করলে সহজে বুঝতে পারেন যে প্রসবের সময় কাছাকাছি এসেছে।
এছাড়া শারীরিক অবস্থাও পরিবর্তিত হয়। পেটের নিচের অংশ নরম লাগতে পারে এবং
প্রসবের সময় পেছনের পায়ের অবস্থান একটু ভিন্ন হয়। কিছু গরু হালকা ব্যথার
মতো অস্বস্তি অনুভব করে, তাই তাদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দেওয়া জরুরি।
এই সময়ে হঠাৎ করে কাজের চাপ বা ভারী খাবার দেওয়া ঠিক নয়। সব মিলিয়ে, বাছুর
হওয়ার আগে লক্ষণগুলো বুঝে খামারি আগেভাগেই জায়গা তৈরি করতে পারেন,
প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাখার ব্যবস্থা করতে পারেন এবং মা গরুকে নির্ভরযোগ্য
সহায়তা দিতে পারেন। সঠিকভাবে লক্ষণগুলো চিহ্নিত করা থাকলে বাছুর জন্মের
দিনগুলো অনেক নিরাপদ এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে মা গরু এবং বাছুর
দুজনই সুস্থ থাকে এবং খামারির কাজও সহজ হয়।
গরুর বাছুর প্রসবের স্বাভাবিক সময় ও ধাপ
গরুর বাছুর প্রসবের স্বাভাবিক সময় ও ধাপ জানা খামারির জন্য খুব জরুরি।
সাধারণত একটি গরু গর্ভধারণের প্রায় ২৮০ দিন পর বাছুর জন্ম দেয়। তবে গরুর
জাত, বয়স, খাবারের মান এবং পরিবেশ অনুযায়ী কিছুটা তারতম্য থাকতে পারে।
প্রসবের আগে মা গরুর শরীর এবং আচরণে কিছু পরিবর্তন আসে।
প্রথম ধাপে গরু একটু অস্থির হয়ে ওঠে, বেশি বিশ্রাম নিতে চায় না এবং আলাদা
জায়গা খুঁজে বসে। অনেক সময় হালকা ডাকাডাকি করা বা চঞ্চল আচরণও দেখা যায়।
দ্বিতীয় ধাপে পেটের নিচের অংশ নরম হতে শুরু করে এবং থন ফুলে ওঠে। কিছু গরুর
দুধের পরিমাণ বাড়তে শুরু করে। গরু শ্বাস নিতে ধীরে শুরু করে এবং হালকা
ব্যথার মতো অস্বস্তি অনুভব করতে পারে।
খামারিরা এই সময় খেয়াল রাখলে বুঝতে পারেন যে মূল প্রসবের সময় আসছে। তৃতীয়
ধাপে আসল প্রসব শুরু হয়। এই সময় গরু বসা-দাঁড়ানোর সময় সাবধান থাকে এবং
পেছনের পা কিছুটা ভিন্নভাবে রাখে। প্রথমে পানির মতো সাদা বা হালকা রঙের
পদার্থ বের হতে পারে, যা প্রসবের সূচক। এরপর বাছুর ধীরে ধীরে বাইরে আসে।
খামারির লক্ষ্য থাকে গরুকে শান্ত রাখা এবং যদি প্রয়োজন হয় সাহায্য করা।
প্রসবের পর গরু কিছুটা ক্লান্ত থাকে, তাই তাকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পরিষ্কার
পানি এবং খাবার দেওয়া জরুরি। বাছুর জন্মের সাথে সাথে থন থেকে দুধ পান করানো
শুরু করা ভালো। গরুর স্বাভাবিক সময় ও ধাপ ঠিকমতো জানা থাকলে খামারি আগে
থেকে প্রস্তুতি নিতে পারে, ঝুঁকি কমে যায় এবং মা গরু ও বাছুর দুজনেরই
সুস্থতা নিশ্চিত হয়। সঠিক সময়ে নজর রাখলে গরু পালন অনেক সহজ ও লাভজনক হয়ে
ওঠে।
প্রসবের সময় সম্ভাব্য সমস্যা ও করণীয়
প্রসবের সময় সম্ভাব্য সমস্যা ও করণীয় খামারির জন্য সবসময় নজরে রাখা দরকার।
অনেক সময় গরু স্বাভাবিকভাবে বাছুর জন্ম দিতে পারে, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে
সমস্যা দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হলো বাছুরের অবস্থান ঠিকমতো
না থাকা। যদি বাছুর পেছনের পা বা মাথা আগে না আসে, তখন জন্ম দেওয়ার সময়
ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এমন সময় খামারিকে সাবধানে হস্তক্ষেপ করতে হয় বা অভিজ্ঞ কারো সাহায্য নেওয়া
উচিত। আরেকটি সমস্যা হলো গর্ভের দীর্ঘসময় প্রসব না হওয়া। কখনও কখনও গরু
অনেকক্ষণ contractions দেয়, কিন্তু বাছুর জন্ম পায় না। এই অবস্থায় খামারি
অবশ্যই গরুর বিশ্রাম, পানি ও খাবারের দিকে খেয়াল রাখবে এবং দেরি না করে
ডাক্তারের পরামর্শ নেবে।
প্রসবের সময় অতিরিক্ত চাপ বা অযথা চাপানো থেকেও সমস্যা হতে পারে। গরু শান্ত
পরিবেশে থাকলে এবং আলাদা জায়গায় রাখা হলে ঝুঁকি অনেক কমে যায়। কিছু
ক্ষেত্রে প্রসবের সময় রক্তপাত বা থন ফোলা দেখা দিতে পারে। এগুলো হলে
তৎক্ষণাৎ পরিষ্কার পরিবেশ রাখা, সংক্রমণ এড়ানো এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া
জরুরি।
প্রসবের পর মা গরু ও বাছুর দুজনের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং খাবার দেওয়া
প্রয়োজন। বাছুরকে জন্মের পর প্রথম দুধ খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে
তার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সব মিলিয়ে, প্রসবের সময় সম্ভাব্য
সমস্যা বুঝে আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া খামারির জন্য সহজ হয়। সঠিক নজরদারি,
ধৈর্য এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা থাকলে মা গরু ও বাছুর দুজনেই সুস্থ থাকে। এতে
খামারির ঝুঁকি কমে এবং গরু পালন আরও নিরাপদ ও লাভজনক হয়ে ওঠে।
বাছুর জন্মের পর মা ও বাছুরের যত্ন
বাছুর জন্মের পর মা ও বাছুরের যত্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর মধ্যে
একটি। বাছুর প্রথম জন্মের পর অনেক দুর্বল থাকে, তাই খামারির নজর দেওয়া
দরকার। জন্মের ঠিক পরে বাছুরকে থন থেকে দুধ খাওয়ানো শুরু করতে হবে, যাতে
তার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। মা গরুও এই সময় ক্লান্ত থাকে, তাই তাকে শান্ত
জায়গায় রাখা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া জরুরি।
জন্মের পর প্রথম ২৪ ঘন্টায় বাছুরের তাপমাত্রা ঠিক রাখা খুব দরকার। যদি
ঠান্ডা বা ভিজা জায়গায় থাকে, তার জন্য সমস্যা হতে পারে। তাই পরিষ্কার ও
শুকনো বিছানা দেওয়া উচিত। পানি খাওয়ানো শুরু করা যায়, তবে প্রথমে বাছুরকে
দুধ খাওয়ানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মা গরুর দুধ পর্যাপ্ত আছে কিনা তা খামারিকে
নজর দিয়ে দেখা উচিত।
মা গরুর স্বাস্থ্যও গুরুত্বপূর্ণ। প্রসবের পরে কিছু গরু হালকা ক্লান্তি বা
অস্বস্তি অনুভব করে। খাবার ও পানি পর্যাপ্ত দেওয়া উচিত। কিছু গরু প্রসবের
পরে হালকা রক্তপাত করতে পারে, যা স্বাভাবিক হলেও বেশি হলে চিকিৎসকের
পরামর্শ নেওয়া দরকার। পাশাপাশি মা গরু ও বাছুরকে একসাথে রাখলে তারা দ্রুত
মানিয়ে নেয়।
প্রথম কয়েক দিনে বাছুরের হাটু শক্ত হতে সময় নেয়। খামারির উচিত তাকে
অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া, বরং সহজ পরিবেশে রাখা। নিয়মিত দুধ খাওয়ানো,
পরিষ্কার পরিবেশ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম-এই সব মিলিয়ে মা ও বাছুর দুজনেরই
স্বাস্থ্য ঠিক রাখা সম্ভব। সঠিক যত্ন নিলে বাছুর দ্রুত শক্তিশালী হয় এবং মা
গরুও সুস্থ থাকে। এতে খামারি সহজে বাছুর পালনের কাজ চালাতে পারে এবং ঝুঁকি
কমে।
শেষ কথা:গরুর বাছুর কত দিনে হয়
শেষ কথা হিসেবে বলা যায়, গরুর বাছুর কত দিনে হয় তা জানা শুধু তথ্যের জন্য
নয়, বরং খামারির জন্য খুবই কাজে লাগে। সাধারণত একটি গরু প্রায় ২৮০ দিন পর
বাছুর জন্ম দেয়, তবে এটা গরুর জাত, বয়স, খাবার ও পরিবেশের ওপর নির্ভর করে
কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। আমার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, খামারিরা যদি এই সময় আগে
থেকে বুঝে এবং প্রস্তুতি নেন, তাহলে প্রসব সহজ হয় এবং মা গরু ও বাছুর দুজনই
সুস্থ থাকে।
বাছুরের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য জন্মের পর প্রথম দুধ খাওয়ানো খুব জরুরি।
মা গরুর খাবার, পানি এবং বিশ্রামের দিকে নজর দিলে গরু দ্রুত স্বাভাবিক
অবস্থায় ফিরে আসে। এছাড়া বাছুরকে পরিষ্কার, শুকনো পরিবেশে রাখা, হালকা
পর্যবেক্ষণ করা এবং সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া খুব কাজে আসে। আমার মতামত হলো,
খামারি যদি ধৈর্য ধরে গরুর গর্ভকাল ও বাছুর জন্মের সময় পর্যবেক্ষণ করেন,
তাহলে ঝুঁকি অনেক কমে যায় এবং বাছুর ভালোভাবে বড় হয়।
সব মিলিয়ে, গরুর বাছুর কত দিনে হয় তা জানা প্রত্যেক খামারির জন্য
প্রয়োজনীয়। এটা শুধু হিসাবের বিষয় নয়, বরং নিরাপদ ও লাভজনক গরু পালন
নিশ্চিত করার এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। সঠিক প্রস্তুতি, নিয়মিত যত্ন এবং
সচেতন নজরদারি থাকলে মা ও বাছুর দুজনই সুস্থ থাকে, খামারিও লাভবান হয়।



লাইফ ব্লেন্ড আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url