2026 সালের ক্যালেন্ডার সরকারি ছুটির তালিকা
২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার সরকারি ছুটির তালিকা জানা থাকলে ব্যক্তিগত জীবন,
অফিসের কাজ এবং ভ্রমণ পরিকল্পনা অনেক সহজ হয়ে যায়। নতুন বছরের শুরুতেই কোন
মাসে কতগুলো সরকারি ছুটি আছে, কোন দিনগুলোতে ধর্মীয় বা জাতীয় ছুটি পড়ছে তা
জানা থাকলে সময় ব্যবস্থাপনা আরও ভালোভাবে করা সম্ভব। চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী
কিংবা ব্যবসায়ী সবার জন্যই এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। এই আর্টিকেলে ২০২৬ সালের
বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত সরকারি ছুটির তালিকা সহজ ও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা
হয়েছে, যাতে আপনি এক নজরেই প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন।
পোস্টটি শুরু করার আগে আপনাদের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি যে, অবশ্যই পোস্টটি
শেষ পর্যন্ত পড়বেন এবং প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সম্পর্কে জানবেন এবং তা
সঠিকভাবে প্রয়োগ করবেন। পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়ার মাধ্যমে আপনারা এ পোস্টের
গুরুত্বপূর্ণ সব কথাগুলো ভালোভাবে বুঝতে পারবেন এবং তা প্রয়োগ করতে কোন
অসুবিধা হবে না বা প্রয়োগের পরও কোন অসুবিধা হবে না। আপনাদের সুবিধার্থে
পোষ্টের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো পেজ সূচিপত্র আকারে তুলে ধরা হলো।
পেজ সূচিপত্র:2026 সালের ক্যালেন্ডার সরকারি ছুটির তালিকা
- ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার সরকারি ছুটির তালিকা
- ২০২৬ সালে মোট সরকারি ছুটির সংখ্যা
- জাতীয় দিবস ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ছুটি
- ধর্মীয় ছুটির তালিকা (ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান)
- আন্তর্জাতিক দিবস ও বিশেষ উপলক্ষ
- ২০২৬ সালের শুক্রবার ও সাপ্তাহিক ছুটি বিশ্লেষণ
- মাসভিত্তিক সরকারি ছুটির পূর্ণ তালিকা
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিসের ছুটি সংক্রান্ত তথ্য
- ২০২৬ সালের ছুটি দিয়ে ভ্রমণ ও পরিকল্পনার টিপস
- শেষ কথা:2026 সালের ক্যালেন্ডার সরকারি ছুটির তালিকা
2026 সালের ক্যালেন্ডার সরকারি ছুটির তালিকা
২০২6 সালের ক্যালেন্ডার সরকারি ছুটির তালিকা অনেক মানুষের জন্য আগেভাগে
জানা থাকা দরকারি একটি বিষয়। চাকরি করেন, পড়াশোনা করেন বা নিজের কাজ
সামলান, সবার জন্যই ছুটির দিনগুলো জানা থাকলে সময় ঠিকভাবে সাজানো সহজ হয়।
নতুন বছরে কোন মাসে বেশি ছুটি আছে, কোন সময় লম্বা ছুটি পাওয়া যেতে পারে,
এসব তথ্য জানলে পরিবারকে সময় দেওয়া, ছোটখাটো ভ্রমণ বা জরুরি কাজের
পরিকল্পনা আগেই করা যায়।
এই লেখায় ২০২6 সালের সরকারি ছুটির দিনগুলো সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিন্তু
দরকারি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে জাতীয় দিবস, ধর্মীয় উৎসবের
ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটির সাথে মিল থাকা দিনগুলো এবং সাধারণ অফিস ছুটির
বিষয়গুলো একসাথে বোঝার মতো করে তুলে ধরা হয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, ছুটির
তথ্য না জানার কারণে কাজের চাপ বেড়ে যায় বা গুরুত্বপূর্ণ কিছু মিস হয়ে
যায়।
আগেভাগে ছুটির তালিকা জানা থাকলে এসব ঝামেলা অনেকটাই কমে। বাংলাদেশের
সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার মূলত অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন
সংস্থার কাজের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই বছরের শুরুতেই এই তথ্য এক জায়গায়
পাওয়া গেলে দৈনন্দিন জীবন অনেক গুছানো থাকে। ২০২6 সালের ছুটির তালিকা দেখে
আপনি নিজের কাজ, বিশ্রাম আর পারিবারিক সময়ের মধ্যে ভালো একটা ব্যালান্স
তৈরি করতে পারবেন।
২০২৬ সালে মোট সরকারি ছুটির সংখ্যা
২০২৬ সালে মোট সরকারি ছুটির সংখ্যা নিয়ে আগ্রহ থাকে প্রায় সবারই। কারণ
বছরজুড়ে কত দিন অফিস, স্কুল বা কলেজ বন্ধ থাকবে, তা জানা থাকলে কাজের চাপ
সামলানো সহজ হয়। অনেকেই নতুন বছরের শুরুতেই হিসাব করে নিতে চান কোন মাসে
ছুটি বেশি, কখন টানা বিশ্রামের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। এই হিসাব চাকরিজীবী,
শিক্ষার্থী এমনকি ব্যবসায়ীদের জন্যও কাজে লাগে।
২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় জাতীয় দিবস, ধর্মীয় উৎসবের ছুটি এবং কিছু
বিশেষ সরকারি ছুটি মিলিয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক দিন নির্ধারণ করা হয়। এই
ছুটিগুলো সাধারণত বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ঘোষণা করা হয় এবং সব সরকারি অফিস ও
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রযোজ্য থাকে। অনেক ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে
সরকারি ছুটি মিললে লম্বা অবসর পাওয়া যায়, যা মানুষ ভ্রমণ বা পারিবারিক
সময়ের জন্য ব্যবহার করে।
মোট সরকারি ছুটির সংখ্যা জানা থাকলে ব্যক্তিগত পরিকল্পনা অনেক গুছানো হয়।
কেউ আগে থেকেই বুঝে নিতে পারেন কোন সময় পড়াশোনার চাপ বেশি হবে, আবার কেউ
অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো ছুটির আগেই শেষ করার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে
পরীক্ষার প্রস্তুতি, ব্যবসায়িক মিটিং বা পারিবারিক অনুষ্ঠান ঠিক করতে এই
তথ্য বেশ কাজে দেয়।
২০২৬ সালের ছুটির সংখ্যা নির্ভর করে কোন কোন তারিখে ধর্মীয় উৎসব পড়ছে এবং
সেগুলো সপ্তাহের কোন দিনে হচ্ছে তার ওপর। তাই একই ধরনের ছুটি থাকলেও
বছরভেদে মোট সংখ্যা কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে। অনেক মানুষ ক্যালেন্ডার
দেখে আগেই আন্দাজ করেন কোথায় সময় বের করা সম্ভব।
বাংলাদেশের সরকারি ছুটির হিসাব শুধু বিশ্রামের জন্য নয়, বরং কাজের গতি ঠিক
রাখার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে ছুটির সংখ্যা জানা থাকলে পুরো বছরটা
আরও পরিকল্পিতভাবে কাটানো যায়, অপ্রয়োজনীয় চাপ কমে এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার
সম্ভব হয়।
জাতীয় দিবস ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ছুটি
জাতীয় দিবস ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ছুটি দেশের মানুষের জীবনের সঙ্গে
সরাসরি জড়িয়ে থাকে। এই দিনগুলো শুধু অফিস বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার
জন্য নয়, বরং দেশের ইতিহাস, আত্মপরিচয় আর অর্জনকে মনে করার জন্যও বিশেষ
সময়। বছরে কয়েকটি নির্দিষ্ট দিনে পুরো দেশ একসাথে থেমে যায়, মানুষ পতাকা
তোলে, বিভিন্ন আয়োজন হয়, আর সবাই মিলে অতীতের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো
স্মরণ করে।
বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ের ছুটিগুলোর মধ্যে আছে স্বাধীনতা অর্জনের দিন,
ভাষার জন্য আত্মত্যাগের স্মৃতি, বিজয়ের আনন্দ এবং রাষ্ট্রীয় নানা উপলক্ষ।
এসব দিনে সরকারি অফিস, আদালত, স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকে। অনেক বেসরকারি
প্রতিষ্ঠানও এই ছুটি অনুসরণ করে। ফলে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত এক ধরনের
আলাদা পরিবেশ তৈরি হয়। টেলিভিশন, পত্রিকা আর অনলাইনে এসব দিবস নিয়ে বিশেষ
আয়োজন দেখা যায়।
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ছুটিগুলো সাধারণত সরকারিভাবে নির্ধারিত হয় এবং
এগুলোর তারিখ আগে থেকেই জানা থাকে। তাই মানুষ এই দিনগুলো ঘিরে পারিবারিক
সময়, ছোটখাটো ভ্রমণ বা ব্যক্তিগত কাজের পরিকল্পনা করে নেয়। অনেকেই এই সময়
গ্রামে বাড়ি যান, কেউ আবার শহরেই থেকে বিশ্রাম নেন। এই ছুটিগুলো দৈনন্দিন
ব্যস্ততার মধ্যে একটু থামার সুযোগ এনে দেয়।
এই ধরনের ছুটি দেশের প্রশাসনিক কাজের সাথেও সম্পর্কিত। ব্যাংক, সরকারি
দপ্তর এবং বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠান এই সময় বন্ধ বা সীমিত আকারে চালু থাকে।
তাই আগেভাগে ছুটির বিষয় জানা থাকলে প্রয়োজনীয় কাজ আগে সেরে রাখা সহজ হয়।
এতে ঝামেলা কমে এবং সময় বাঁচে।
সব মিলিয়ে জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় ছুটির দিনগুলো শুধু ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়।
এগুলো মানুষের অনুভূতি, ইতিহাস আর দৈনন্দিন জীবনের সাথে গভীরভাবে জড়িত।
সঠিকভাবে এই দিনগুলো জানা থাকলে বছরটা আরও গুছিয়ে কাটানো সম্ভব হয়।
ধর্মীয় ছুটির তালিকা (ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান)
বাংলাদেশে ধর্মীয় ছুটির তালিকা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাথে খুব
স্বাভাবিকভাবেই জড়িয়ে আছে। ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান এই চারটি
ধর্মের বড় উৎসবগুলোকে ঘিরে সরকারি ছুটি দেওয়া হয়, যাতে সবাই নিজ নিজ ধর্মীয়
আচার ঠিকভাবে পালন করতে পারে। এসব ছুটি শুধু বিশ্রামের জন্য নয়, বরং
পরিবার, সমাজ আর ধর্মীয় বন্ধনকে আরও শক্ত করার একটা সুযোগ তৈরি করে।
ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, শবে বরাত, শবে কদর ও ঈদে
মিলাদুন্নবী ছুটির মধ্যে পড়ে। এই সময় মুসলমানরা নামাজ, দোয়া, কোরবানি ও
আত্মীয়স্বজনের সাথে দেখা করার মাধ্যমে দিনগুলো কাটান। অন্যদিকে হিন্দু
ধর্মাবলম্বীদের জন্য দুর্গাপূজা, কালীপূজা, জন্মাষ্টমীসহ কয়েকটি
গুরুত্বপূর্ণ দিনে ছুটি থাকে। এসব সময় মণ্ডপ, পূজা আর সামাজিক অনুষ্ঠানে
চারপাশে উৎসবের আমেজ দেখা যায়।
বৌদ্ধ ধর্মের বড় ছুটিগুলোর মধ্যে বুদ্ধ পূর্ণিমা অন্যতম। এই দিনে বৌদ্ধ
ধর্মাবলম্বীরা প্রার্থনা, দান ও ধর্মীয় আলোচনা করেন। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের
জন্য বড় দিন বা বড়দিন এবং ইস্টার সানডে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ছুটির অংশ।
চার্চকেন্দ্রিক অনুষ্ঠান আর পারিবারিক মিলনমেলা এই সময়ের মূল আকর্ষণ হয়ে
ওঠে।
এই ধর্মীয় ছুটিগুলো সরকারি ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত থাকার কারণে অফিস,
স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের সময়সূচি সেই অনুযায়ী সাজানো হয়।
ফলে ভিন্ন ধর্মের মানুষ একে অপরের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়। অনেক
ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এক ধর্মের উৎসবে অন্য ধর্মের মানুষও অংশ নেয়, যা
সামাজিক সম্পর্ককে আরও সুন্দর করে।
ধর্মীয় ছুটির সঠিক তালিকা জানা থাকলে ব্যক্তিগত কাজ, ভ্রমণ কিংবা পারিবারিক
পরিকল্পনা আগেই ঠিক করা সহজ হয়। এতে সময়ের অপচয় কমে এবং বছরজুড়ে জীবন অনেক
বেশি গুছানো থাকে।
আন্তর্জাতিক দিবস ও বিশেষ উপলক্ষ
আন্তর্জাতিক দিবস ও বিশেষ উপলক্ষ বছরের বিভিন্ন সময়ে মানুষের জীবনে আলাদা
একটা গুরুত্ব নিয়ে আসে। এসব দিন মূলত বিশ্বব্যাপী কোনো নির্দিষ্ট বিষয়,
অধিকার বা সচেতনতার কথা মনে করিয়ে দেয়। কখনো তা মানুষকে ভাবায়, কখনো উৎসাহ
দেয়, আবার কখনো সমাজের দিকে নতুন করে তাকাতে শেখায়। এসব দিবস কেবল কাগজে
লেখা তারিখ নয়, বরং বাস্তব জীবনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
বছরজুড়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দিবস পালিত হয়। যেমন নারী অধিকার নিয়ে ভাবার
দিন, ভাষার গুরুত্ব বোঝানোর দিন, পরিবেশ রক্ষার কথা মনে করিয়ে দেওয়ার দিন
বা শ্রমজীবী মানুষের অবদান তুলে ধরার উপলক্ষ। এসব দিনে স্কুল, কলেজ, অফিস
কিংবা অনলাইন মাধ্যমে আলোচনা, পোস্ট, ছোট আয়োজন বা সচেতনতামূলক কার্যক্রম
দেখা যায়। অনেক প্রতিষ্ঠান এই দিনগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ কর্মসূচিও
রাখে।
বিশেষ উপলক্ষগুলো অনেক সময় সরকারি ছুটির সাথে সরাসরি যুক্ত না হলেও মানুষের
আগ্রহ কম থাকে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিভিশন আর সংবাদপত্রে এসব দিবস
নিয়ে নানা ধরনের তথ্য প্রকাশ হয়। ফলে সাধারণ মানুষও নতুন কিছু জানার সুযোগ
পায়। অনেক সময় এসব দিবস মানুষের চিন্তাভাবনায় ছোট হলেও ইতিবাচক পরিবর্তন
আনে।
আন্তর্জাতিক দিবসগুলো পরিকল্পনার দিক থেকেও কাজে লাগে। যারা কনটেন্ট তৈরি
করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন বা সামাজিক উদ্যোগের সাথে যুক্ত, তাদের
জন্য এসব দিন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট একটি দিন ঘিরে কাজ সাজানো সহজ
হয়। এতে সময় বাঁচে এবং কাজের ফোকাস ঠিক থাকে।
বিশেষ দিবসগুলো আমাদের দৈনন্দিন ব্যস্ততার মধ্যে থামিয়ে কিছু বিষয় নতুন করে
ভাবতে শেখায়। পরিবার, সমাজ বা বিশ্বের জন্য আমরা কী করতে পারি, সেই
প্রশ্নগুলো সামনে আসে। বছরজুড়ে এই দিনগুলোর একটি পরিষ্কার ধারণা থাকলে জীবন
আরও সচেতনভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
২০২৬ সালের শুক্রবার ও সাপ্তাহিক ছুটি বিশ্লেষণ
২০২৬ সালের শুক্রবার ও সাপ্তাহিক ছুটি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় বছরজুড়ে
বিশ্রামের সুযোগগুলো কীভাবে ছড়িয়ে আছে। বাংলাদেশে সাধারণত শুক্রবার ও
শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে ধরা হয়। তাই এই দুই দিনকে ঘিরে মানুষের কাজের
রুটিন, পারিবারিক সময় আর ব্যক্তিগত পরিকল্পনা অনেকটাই নির্ভর করে। নতুন
বছরে কতগুলো শুক্রবার আছে, কোন মাসে ছুটি বেশি, এসব বিষয় জানলে সময়
ব্যবস্থাপনা সহজ হয়।
২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার দেখলে দেখা যায়, কিছু মাসে শুক্রবার সংখ্যা
তুলনামূলকভাবে বেশি, আবার কিছু মাসে কম। যেসব মাসে পাঁচটি শুক্রবার রয়েছে,
সেসব সময়ে মানুষ একটু বাড়তি স্বস্তি পায়। কারণ নিয়মিত কাজের ফাঁকে
বিশ্রামের সুযোগ বেড়ে যায়। আবার কোথাও শুক্রবারের সাথে সরকারি ছুটি যুক্ত
হলে টানা কয়েক দিনের অবসর তৈরি হয়, যা অনেকেই ভ্রমণ বা পরিবারের সাথে সময়
কাটানোর জন্য ব্যবহার করেন।
সাপ্তাহিক ছুটির এই হিসাব চাকরিজীবীদের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি
শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের জন্যও কাজে লাগে। স্কুল-কলেজের পড়াশোনা, কোচিং বা
পরীক্ষা প্রস্তুতি অনেক সময় এই ছুটির ওপর নির্ভর করে সাজানো হয়। ব্যবসার
ক্ষেত্রেও দেখা যায়, ছুটির দিনগুলোতে বিক্রি বা কাজের ধরন আলাদা হয়। তাই
আগেই শুক্রবার ও সাপ্তাহিক ছুটির ধরন বুঝে নেওয়া লাভজনক।
২০২৬ সালে কোন কোন শুক্রবার সরকারি ছুটির সাথে মিলছে, সেটাও অনেকের আগ্রহের
বিষয়। এতে করে স্বাভাবিক সপ্তাহের বাইরে অতিরিক্ত অবসর পাওয়া যায়। অনেকে এই
সুযোগে ছোটখাটো ট্রিপ প্ল্যান করেন, আবার কেউ ঘরের কাজ গুছিয়ে নেওয়ার সময়
পান।
সাপ্তাহিক ছুটির সঠিক বিশ্লেষণ থাকলে বছরজুড়ে কাজ আর বিশ্রামের মধ্যে
ভারসাম্য রাখা সহজ হয়। চাপ কমে, সময়ের ব্যবহার ভালো হয় এবং দৈনন্দিন জীবন
আরও গোছানো থাকে।
মাসভিত্তিক সরকারি ছুটির পূর্ণ তালিকা
মাসভিত্তিক সরকারি ছুটির পূর্ণ তালিকা জানলে পুরো বছরের পরিকল্পনা অনেক সহজ
হয়ে যায়। আলাদা আলাদা মাসে কী কী ছুটি আছে, সেটা এক নজরে বোঝা গেলে কাজ,
পড়াশোনা আর ব্যক্তিগত সময়ের মধ্যে সমন্বয় করা সুবিধাজনক হয়। অনেক সময় দেখা
যায়, কোনো মাসে ছুটি বেশি থাকে, আবার কোনো মাস প্রায় পুরোপুরি কাজের মধ্যে
কেটে যায়। এই পার্থক্যটা আগে থেকেই জানা থাকলে মানসিক প্রস্তুতিও ভালো
থাকে।
বছরের শুরুতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে সাধারণত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ছুটি
থাকে। এই সময় নতুন বছরের কাজের গতি ধীরে ধীরে সেট হয়। মার্চ ও এপ্রিল মাসে
জাতীয় ও ধর্মীয় কিছু ছুটি থাকার কারণে অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিরতি
দেখা যায়। গরমের সময় হওয়ায় অনেকেই এই মাসগুলোতে বিশ্রাম বা পরিবারের সাথে
সময় কাটানোর চেষ্টা করেন।
মে ও জুন মাসে ছুটির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও কখনো বিশেষ উপলক্ষ বা
ধর্মীয় কারণে অতিরিক্ত ছুটি যোগ হতে পারে। জুলাই ও আগস্ট মাসে আবার কিছুটা
পরিবর্তন আসে। বর্ষাকালের কারণে এই সময় মানুষ বেশি বাইরে না গিয়ে ঘরোয়া কাজ
বা বিশ্রামে মন দেয়। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে বড় ধর্মীয় উৎসব থাকার কারণে
মাসভিত্তিক ছুটির তালিকায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়।
নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস সাধারণত বছরের শেষ দিকের হিসাব-নিকাশের সময়। এই দুই
মাসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিবস এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে কাজের চাপ কিছুটা
হালকা হয়। অনেকেই এই সময় পুরো বছরের ক্লান্তি কাটাতে ছুটির সুযোগ খোঁজেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পরীক্ষার সময়সূচি অনেক সময় এই মাসভিত্তিক ছুটির ওপর
ভিত্তি করে ঠিক করা হয়।
মাস ধরে সরকারি ছুটির তালিকা জানা থাকলে হঠাৎ করে কাজ আটকে যাওয়ার ঝামেলা
কমে। আগে থেকেই প্রয়োজনীয় কাজ সেরে রাখা যায়, ভ্রমণ বা পারিবারিক আয়োজন ঠিক
করা সহজ হয়। পুরো বছরটা তখন এলোমেলো না হয়ে অনেক বেশি গুছানোভাবে এগিয়ে
চলে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিসের ছুটি সংক্রান্ত তথ্য
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিসের ছুটি সংক্রান্ত তথ্য জানা থাকলে দৈনন্দিন জীবন
অনেক সহজ হয়ে যায়। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় আর অফিসের ছুটি এক না হলে
অনেক সময় ঝামেলা তৈরি হয়। কারো ক্লাস বন্ধ কিন্তু অফিস খোলা, আবার কারো
অফিস বন্ধ কিন্তু বাচ্চাদের স্কুল খোলা। তাই আগে থেকেই ছুটির ধরন বুঝে
নেওয়া খুব দরকারি বিষয়।
বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি সাধারণত সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডারের
সাথে মিল রেখে নির্ধারণ করা হয়। জাতীয় দিবস, ধর্মীয় উৎসব আর কিছু বিশেষ
দিনে স্কুল ও কলেজ বন্ধ থাকে। এর পাশাপাশি আলাদা করে পরীক্ষার ছুটি,
বার্ষিক ছুটি বা গ্রীষ্মকালীন ছুটি থাকে, যেগুলো শিক্ষা বোর্ড বা
প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধান্তে ঠিক করা হয়। ফলে সব ছুটি একসাথে না হয়ে
বছরজুড়ে ভাগ হয়ে থাকে।
অন্যদিকে অফিসের ছুটি মূলত সরকার ঘোষিত ছুটির ওপর নির্ভর করে। সরকারি
অফিসগুলো নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী বন্ধ থাকে, আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অনেক
সময় সেই তালিকা অনুসরণ করলেও নিজেদের নিয়ম অনুযায়ী কিছু পরিবর্তন করে।
ব্যাংক, আদালত বা গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রতিষ্ঠানেও ছুটির দিনে কাজের সময়
সীমিত হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় কাজ থাকলে আগেই জেনে নেওয়া ভালো।
এই দুই ধরনের ছুটির তথ্য জানা থাকলে পরিবারে সময় মেলানো সহজ হয়। বাবা-মা
কাজ থেকে ছুটি পেলেও বাচ্চাদের ক্লাস থাকলে সমস্যা হয়, আবার উল্টো হলেও
ঝামেলা বাড়ে। ছুটির দিনগুলো আগে থেকে জানা থাকলে ভ্রমণ, পড়াশোনা, কোচিং বা
পারিবারিক আয়োজন ঠিকভাবে সাজানো যায়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিসের ছুটি শুধু বিশ্রামের বিষয় না, এটি সময়
ব্যবস্থাপনার সাথেও জড়িত। সঠিক তথ্য থাকলে হঠাৎ পরিকল্পনা বদলাতে হয় না।
কাজ, পড়াশোনা আর ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখা তখন অনেক সহজ হয়ে
যায়।
২০২৬ সালের ছুটি দিয়ে ভ্রমণ ও পরিকল্পনার টিপস
২০২৬ সালের ছুটি দিয়ে ভ্রমণ ও পরিকল্পনার টিপস জানা থাকলে পুরো বছরটা অনেক
বেশি উপভোগ্য হতে পারে। অনেকেই ছুটি পেলেই হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেন, ফলে সময়,
টাকা আর শক্তি ঠিকভাবে কাজে লাগে না। কিন্তু আগেভাগে ছুটির দিনগুলো মাথায়
রেখে পরিকল্পনা করলে অল্প ছুটিতেই ভালো ঘোরাঘুরি বা মানসম্মত বিশ্রাম নেওয়া
সম্ভব।
প্রথম কাজ হচ্ছে ক্যালেন্ডার দেখে কোন কোন ছুটি সাপ্তাহিক বন্ধের সাথে
মিলছে তা বের করা। এতে করে দুই বা তিন দিনের জায়গায় টানা চার বা পাঁচ দিনের
অবসর পাওয়া যায়। এই সময়গুলো ছোট ট্রিপের জন্য বেশ উপযোগী। কাছাকাছি জায়গা
হলে যাতায়াতে সময় কম লাগে, খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকে। যারা পরিবার নিয়ে ভ্রমণ
করেন, তাদের জন্য এই পদ্ধতি বেশ কাজে দেয়।
ভ্রমণের পরিকল্পনায় বাজেট বড় বিষয়। ছুটির মৌসুমে হোটেল আর পরিবহন খরচ বেড়ে
যায়। তাই আগেই বুকিং দিলে অনেক সময় কম দামে ভালো অপশন পাওয়া যায়। যারা বেশি
ভিড় পছন্দ করেন না, তারা জনপ্রিয় ছুটির দিনের একদিন আগে বা পরে ভ্রমণ শুরু
করতে পারেন। এতে ভিড় কম থাকে এবং ভ্রমণ আরামদায়ক হয়।
সব ছুটি যে বাইরে কাটাতে হবে এমন নয়। কিছু ছুটি নিজের জন্য রাখাও দরকার। এই
সময় ঘরের কাজ গুছিয়ে নেওয়া, পরিবারের সাথে সময় কাটানো বা শুধু বিশ্রাম
নেওয়াও পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। এতে শরীর আর মন দুটোই সতেজ থাকে। কাজের
চাপও কম মনে হয়।
২০২৬ সালের ছুটিগুলো মাথায় রেখে পড়াশোনা, অফিসের কাজ আর ব্যক্তিগত সময়
আলাদা করে ভাগ করা গেলে জীবন অনেক গুছানো থাকে। হঠাৎ ছুটি নষ্ট না হয়ে
প্রতিটা দিন কাজে লাগে। একটু আগেভাগে ভাবলেই ছুটি হয়ে উঠতে পারে ভ্রমণ,
বিশ্রাম আর নিজের জন্য সময় বের করার সুন্দর সুযোগ।
শেষ কথা:2026 সালের ক্যালেন্ডার সরকারি ছুটির তালিকা
শেষ কথা হিসেবে বলতেই হবে, ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার সরকারি ছুটির তালিকা
দেখে আমার মনে হয়েছে আগেভাগেই বছরের পরিকল্পনা করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।
অফিস, স্কুল-কলেজ বা ব্যস্ত জীবনের মাঝে ছুটি কখন কোন মাসে আছে তা আগে জানা
থাকলে সময় বাঁচে আর হঠাৎ কোনো কাজ আটকে যাওয়ার ঝামেলা হয় না। এছাড়া
পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, ভ্রমণ বা ব্যক্তিগত কাজগুলোও ভালোভাবে ঠিক করা
যায়।
ব্যক্তিগত মতামত হলো, সরকারি ছুটির তালিকাকে শুধু তারিখের হিসাব হিসেবে
দেখার পরিবর্তে এটাকে পুরো বছরের সময় ব্যবস্থাপনার একটি হাতিয়ার হিসেবে
ব্যবহার করা উচিত। সাপ্তাহিক ছুটি, ধর্মীয় এবং জাতীয় উৎসব মিলিয়ে টানা
বিশ্রামের সুযোগ খুঁজে নিতে পারলে পুরো বছরটা অনেক বেশি গুছানো থাকে। এছাড়া
এই তথ্য অনুযায়ী নিজের কাজ, পড়াশোনা বা অন্যান্য দায়িত্ব সামলানো অনেক সহজ
হয়।
সর্বশেষে বলতে চাই, ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা মাথায় রেখে আগেভাগে
পরিকল্পনা করলে বছরের প্রতিটা দিনকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।
সময় বাঁচে, কাজের চাপ কমে এবং ছুটি মানেই শুধু বিশ্রাম নয়, বরং
পরিকল্পিতভাবে আনন্দ আর উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ হয়ে ওঠে। তাই এই তালিকা
প্রত্যেকের জন্য খুবই দরকারি।



লাইফ ব্লেন্ড আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url